চিকিৎসা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনগুলোর একটি। অসুস্থ অবস্থায় একজন রোগী চিকিৎসকের কাছে যান সুস্থ হওয়ার আশায়। চিকিৎসকের জ্ঞান, সময় ও পরামর্শের যথাযথ মূল্য অবশ্যই রয়েছে। তবে সেই সঙ্গে রোগীর আর্থিক সক্ষমতা ও বাস্তবতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বর্তমানে অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ভিজিট ১,০০০ টাকা বা তারও বেশি। একজন রোগী প্রথমবার চিকিৎসকের কাছে গেলে চিকিৎসক রোগী দেখেন, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ দেন এবং অনেক ক্ষেত্রে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, সেই পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে একই চিকিৎসকের কাছে গেলে কেন আবার ভিজিট বা চার্জ দিতে হবে?
রোগীর দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রথমবারের ভিজিটের পর চিকিৎসক যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়েছেন, সেগুলোর রিপোর্ট পর্যালোচনা করে পরবর্তী চিকিৎসা নির্ধারণ করাও তো চিকিৎসা প্রক্রিয়ারই অংশ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন রোগীর জন্য প্রতিবার ১,০০০ বা তার বেশি টাকা ভিজিট দেওয়া সহজ নয়। এর সঙ্গে যোগ হয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, যাতায়াতসহ অন্যান্য ব্যয়।
অবশ্যই চিকিৎসকের সময়ের মূল্য আছে এবং রিপোর্ট পর্যালোচনার জন্যও সময় ব্যয় হয়। কিন্তু একই রোগের ধারাবাহিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে রিপোর্ট দেখানোর জন্য প্রতিবার পূর্ণ ভিজিট নেওয়া কতটা যৌক্তিক এ প্রশ্নটি এখন গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও রোগীবান্ধব নীতিমালা হতে পারে। যেমন প্রথম ভিজিটের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার রিপোর্ট দেখানোর ক্ষেত্রে পুনরায় ভিজিট না নেওয়া। এতে চিকিৎসকের পেশাগত মর্যাদা যেমন বজায় থাকবে, তেমনি রোগীর ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপও কমবে।
আমরা চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দাঁড় করাতে চাই না। বরং চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে আস্থা, স্বচ্ছতা ও মানবিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হোক এটাই প্রত্যাশা। চিকিৎসা একটি সেবামূলক পেশা; এখানে পেশাগত সম্মান ও আর্থিক মূল্যায়নের পাশাপাশি রোগীর অসহায়ত্ব ও সামর্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
রোগী যেন চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক চাপে চিকিৎসা থেকে দূরে সরে না যান এ দায়িত্ব চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের সবার।
স্বচ্ছ ভিজিট নীতি, যুক্তিসংগত ফি এবং রোগীবান্ধব ব্যবস্থা এই তিনের সমন্বয়ই পারে আমাদের চিকিৎসাসেবাকে আরও মানবিক ও আস্থাশীল করে তুলতে।
লেখক: মো: হাবিবুর রহমান
সম্পাদক ও প্রকাশক
দৈনিক জনচিত্র


















