শনিবার , ৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ১লা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অপরাধ
  3. অর্থনীতি
  4. আইন আদালত
  5. আইন ও পরামর্শ
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আবহাওয়া
  8. ইসলাম
  9. কর্পোরেট
  10. কৃষি
  11. ক্যাম্পাস
  12. ক্রিকেট
  13. খুলনা
  14. খেলাধুলা
  15. চট্টগ্রাম

‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম’ বলা সেই নেতার মুক্তির দাবিতে শাহবাগ অবরোধ

প্রতিবেদক
দৈনিক জানচিত্র
জানুয়ারি ৩, ২০২৬ ১২:৫৬ অপরাহ্ণ

হবিগঞ্জে ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’ বলে আলোচনায় আসা মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা মোড়টি অবরোধ করায় কয়েকটি সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

শনিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মাহদী হাসানকে আটক করে পুলিশ। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সদস্য সচিব এবং হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁর বাড়ি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার ভাদৈ এলাকায়।

সরেজমিন দেখা যায়, শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তাঁরা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে একটু পর পর তাঁরা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছেন।

মাহদীকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে সংগঠনের নেতা–কর্মীদের শাহবাগে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের মুক্তির দাবিতে সবাইকে শাহবাগে আসার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’এই পোস্টের পরপরই রাত সাড়ে ১০টার দিকে শাহবাগ অবরোধ করেন তাঁরা।

মাহদী হাসানকে আটক করার খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পুলিশ থানার প্রধান ফটক বন্ধ ক‌রে থানার ভেত‌রে অবস্থান কর‌ছেন। সেখানে অতিরিক্ত পু‌লিশ মোতায়েন করা হ‌য়ে‌ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার শায়েস্তাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হাসানকে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে আটক করে থানায় নিয়ে আসে শায়েস্তাগঞ্জ থানা–পুলিশ। এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। এনামুলকে আটকের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁর মুক্তির দাবিতে গতকাল শুক্রবার দুপুরে থানা ঘেরাও করেন। এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলার সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদল নেতা-কর্মী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কক্ষে অবস্থান নেন। এ সময় ওসির সঙ্গে মাহদী হাসানের কথোপকথনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসি আবুল কালামের উদ্দেশে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, ‘জুলাই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমরা সরকার গঠন করেছি। এই জায়গায় আপনারা আমাদের প্রশাসনের লোক। আপনারা আমাদের ছেলেদের গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আবার আমাদের সঙ্গে বার্গেনিং করছেন। আপনি (ওসি) বলেছেন, “আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে?”’ একপর্যায়ে মাহদী হাসান বলেন, ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম। ওই জায়গা থেকে উনি (ওসি) কোন সাহসে এটা (আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে) বললেন। আমি স্ট্রিক্টলি এখানে আসছি। আমরা এতগুলা ছেলে ভাইসা আসছি নাকি?’

খবর পেয়ে বেলা তিনটার দিকে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম শায়েস্তাগঞ্জ থানায় ছুটে যান। তাঁর মধ্যস্থতায় বেলা সাড়ে তিনটার দিকে এনামুল হাসানকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

Facebook Comments Box

সর্বশেষ - জাতীয়