বাংলাতেই সৃজিত মুখার্জির ছবি ‘মিশর রহস্য’ দিয়ে ত্রিধার অভিনয়জীবনের সূচনা। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন নির্মাতার সঙ্গে কাজ করাকে বড় প্রাপ্তি মনে করেন তিনি। অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘আমি তখন খুবই ছোট ছিলাম, ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না। সৃজিতদার মতো পরিচালকের সঙ্গে কাজ করা মানে যেন একজন শিশুকে হাত ধরে পথ দেখানো। উনি আমাকে ভরসা দিতেন, নানাভাবে উৎসাহিত করতেন। উনিই প্রথম বলেছিলেন, অভিনয়ের ক্ষেত্রে ভাষা কখনোই বাধা হতে পারে না।’
অভিনয়ে আসার আগে মাইক্রোবায়োলজি নিয়ে পড়াশোনা করতেন ত্রিধা। পড়াশোনায় ভালো হলেও সেই পেশায় থাকার কোনো ইচ্ছা তাঁর ছিল না। তিনি বলেন, ‘পড়াশোনায় খারাপ ছিলাম না, কিন্তু কখনো মনে হয়নি, সারা জীবন এই লাইনে থাকতে চাই। যখন অভিনয়ে আসার সুযোগ এল, তখন ভয় ছিল—টিকে থাকতে পারব তো? লোকে কী ভাববে? কিন্তু এখন মনে হয়, সেটাই ছিল জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।’
অভিনয়ের প্রতি ছোটবেলা থেকেই আগ্রহ। স্কুলে নাটকে অংশ নিতেন। সেই স্মৃতি টেনে ত্রিধা বলেন, ‘বাবা ছিলেন আমার প্রথম ফটোগ্রাফার। সিঁদুর–রঙা একটা জামা পরে পোজ দিচ্ছি আর বাবা ক্যামেরা হাতে ছবি তুলছেন—ছবিটার কথা এখনো মনে আছে। বাবা খুব অভিব্যক্তিপূর্ণ, শিল্পীমনস্ক ছিলেন। সেখান থেকেই হয়তো অভিনয়ের বীজটা তৈরি হয়েছিল।’
বাংলা দিয়ে শুরু হলেও এই ভাষার চলচ্চিত্রে তাঁকে খুব বেশি দেখা যায়নি—এ নিয়ে ত্রিধার আক্ষেপ আছে, ‘বাংলা দিয়েই ক্যারিয়ার শুরু, কিন্তু এখানে শুরুতে তেমন সুযোগ পাইনি, যা মুম্বাই আমাকে দিয়েছে। অনেক সময় মনে হয়, ভালো কাজ করার পরও কেন বাংলা আমাকে আমার প্রাপ্য সুযোগ দেয়নি? আমি তো বাংলার মেয়ে। বাংলার প্রতি আমার আবেগ সব সময় আলাদা। তাই ভবিষ্যতে বাংলায় আরও বেশি কাজ করতে চাই।’


















