কোনো বক্তব্য নয়, কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়—শুধু নিঃশব্দ শোক। দীর্ঘ নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার পরদিনই গতকাল শুক্রবার বিকেলে নিজের বাবা, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি একান্তে কিছু সময় কাটান এবং মোনাজাত করেন। পরে দলের নেতাদের নিয়েও সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এর আগে সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন তারেক রহমান। তখন তিনি ছিলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব। এরপর কেটে গেছে ১৯ বছর। যার মধ্যে ১৭ বছরই নির্বাসিত জীবন কাটাতে হয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে।
গ্রেপ্তার, নির্যাতন, কারাগারে যাওয়া, নির্বাসন, ভাইয়ের মৃত্যু, মায়ের কারাবন্দী হওয়া, মায়ের অসুস্থতাসহ ব্যক্তিগত জীবনের নানা ধাপ পেরিয়ে দীর্ঘ ১৯ বছর পর সমাধি প্রাঙ্গণে এসেই অশ্রুসজল হয়ে পড়েন তারেক রহমান। চশমা খুলে চোখ মুছে নীরবে তিনি যখন সমাধির সামনে দাঁড়ালেন, তখন একটু দূরে ভিড় করা নেতা-কর্মীরাও ছিলেন অশ্রুসজল।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে ২০১৫ সালে লন্ডনে নির্বাসনে থাকাকালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোকে হারান তারেক রহমান। মায়ের পাশাপাশি তাঁরা দুই ভাই ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান যুক্তরাজ্য এবং আরাফাত রহমান মালয়েশিয়ায় গিয়েছিলেন। গণ-অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ১৫ মাস পর গত বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) যখন তারেক রহমান দেশে ফেরেন, তখন তাঁর মা বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।



















